লোড হচ্ছে...
নির্ভুল তথ্য, নিরাপদ সমাজ
LIVE ফ্যাক্টচেক ডেইলি বাংলা টাইমস -তে স্বাগতম। যাচাই ছাড়া সংবাদ শেয়ার করবেন না...
Logo
Logo

ফলো করুন

এনসিপি নেত্রীকে গণধর্ষণ দাবিতে ভাইরাল বিষয়টি ভুয়া

মিথ্যা (False)
বিশ্লেষণ:

এনসিপি নেত্রীকে গণধর্ষণ দাবিতে ভাইরাল বিষয়টি ভুয়া - প্রমাণিত সত্য

ঘটনাটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট এবং উভয় পক্ষের যুক্তি নিচে তুলে ধরা হলো

১. [দাবির পক্ষে বা অফিসিয়াল বক্তব্য]

  • ডেইলি বাংলা টাইমস-এর ফ্যাক্ট-চেক অনুযায়ী, 'এনসিপি নেত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ শেষে ফেলে পালিয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীরা!' - এই দাবিটি ভুয়া এবং এর সত্যতা পাওয়া যায়নি
  • ফ্যাক্ট-চেক করে জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি মূলত শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার এক নারীর, যা ভিন্ন দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
  • ভিডিওটি সর্বপ্রথম 'ফারজিন সুলতানা' নামে একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টায় পোস্ট করা হয়, তখন এর সাথে কোনো ক্যাপশন ছিল না।
  • ডেইলি বাংলা টাইমসের যাচাইয়ে জানা গেছে, ভিডিওতে প্রদর্শিত ঘটনাটি কক্সবাজারের।

২. [বিপক্ষ যুক্তি বা কেন দাবিটি সন্দেহজনক]

  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল যেখানে একজন নারীকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
  • বিভিন্ন ফেসবুক পেইজ এবং গ্রুপে এই ভিডিওটি 'এনসিপি নেত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ শেষে ফেলে পালিয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীরা!' - এই মিথ্যা ক্যাপশন দিয়ে অসংখ্যবার শেয়ার করা হয়।
  • পিনাকি, সাদিক কায়েমসহ কিছু আইডি এবং মূলত জামায়াত-শিবির বট বাহিনী’র সংশ্লিষ্ট পেইজগুলো থেকেই এই গুজবটি ব্যাপকভাবে ছড়ানো হয়।
  • এদের সাথে যুক্ত হয়েছে জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমান, তিনিও নানারকম প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। 

ফ্যাক্ট-চেক সিদ্ধান্ত

উপরে উল্লিখিত তথ্যপ্রমাণ এবং ফ্যাক্ট-চেক-ডেইলি বাংলা টাইমসের যাচাই অনুযায়ী, 'এনসিপি নেত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ শেষে ফেলে পালিয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীরা!' শীর্ষক দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কক্সবাজারে স্বামীর মারধরে আহত এক নারীর ব্যক্তিগত ঘটনার, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্ন দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। এটি একটি সুপরিকল্পিত গুজব যা ভুল তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।

সংক্ষেপে

এনসিপি নেত্রীকে গণধর্ষণের দাবিটি ভুয়া; এটি কক্সবাজারে স্বামীর মারধরে আহত এক নারীর ভিডিও, যা মিথ্যা দাবিতে ছড়ানো হয়েছে।


Confidence: 95%
এনসিপি নেত্রীকে গণধর্ষণ দাবিতে ভাইরাল বিষয়টি ভুয়া

“স্বামীর মারধরে আহত স্ত্রীর ভিডিও এনসিপি নেত্রীকে বিএনপি নেতাকর্মীদের গণধর্ষণ বলে বট বাহিনীর প্রচার”

ফ্যাক্ট চেক-ডেইলি বাংলা টাইমস : ‘এনসিপি নেত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ শেষে ফেলে পালিয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীরা’ এমন দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফ্যাক্ট চেক-ডেইলি বাংলা টাইমসের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি, ভুঁইফোড় কিছু ফেসবুক পেইজের এই দাবিটি ভুয়া।। শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের ভিডিওটি ভিন্ন দাবিতে প্রচার করা হয়েছে এতে।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে একজন নারীকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ফেসবুকে বিভিন্ন পেইজ এবং গ্রুপে ভিডিওটি অসংখ্যবার শেয়ার হতে দেখা গেছে।


 


ভিডিও যাচাই টুল ইনভিডে প্রচারিত ভিডিওটির কী-ফ্রেম বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি সর্বপ্রথম পোস্ট করা হয় ‘ফারজিন সুলতানা’ নামে একটি ফেসবুক প্রোফাইলে থেকে। সেখানে ভিডিওটির ২২ সেকেন্ডের একটি পুর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়া যায়, যেটি সর্বপ্রথম পোস্ট করা হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৮ টায়। এসময় ভিডিওটি সাথে কোনো ক্যাপশন ছিল না।


তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে দেখা গেছে, অল্প কিছু সময়ের ব্যবধানে পিনাকি, সাদিক কায়েমসহ গুপ্ত’রা বিভিন্ন পেইজে গুজব পাষ্টটি পোস্ট করবে। এতে ক্যাপশনে দাবি করা হয় ‘এনসিপি নেত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ শেষে ফেলে পালিয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীরা!’ মূলত জামায়াত-শিবির বট বাহিনী’র সংশ্লিষ্ট পেইজ গুলো থেকেই বেশীরভাগ এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়ে।






ফ্যাক্ট চেক-ডেইলি বাংলা টাইমসের যাচাইয়ে জানা গেছে সম্পর্কিত ঘটনাটি কক্সবাজারের। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সর্বপ্রথম পোস্ট করা ব্যবহারকারী ফারজিন সুলতানা তার প্রোফাইলে পোস্ট করে জানান, ‘আমার এলাকাই‌ কাল একটা ঘটনা ঘটেছিল স্বামী স্ত্রীকে মারধর করেছে। তো স্ত্রী মারধর সহ্য করতে না পেরে বাসা থেকে বের হয়ে গেল সেখানে ও স্বামী স্ত্রীকে মারধর করতেছে। তাৎক্ষণিকভাবেই এলাকাবাসী ঝাঁপিয়ে পড়ে মেয়েটি কে বাঁচাতে এগিয়ে আসে।


১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপিকে জড়িয়ে ২২০টিরও বেশি গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওতে ছাত্র আন্দোলনের সময়কার পুরোনো ফুটেজ, অগ্নিকাণ্ড এবং ভাঙচুরের দৃশ্য ব্যবহার করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।  

এরই মধ্যে নোয়াখালীর হাতিয়ায় তিন সন্তানের এক জননীকে ধর্ষণের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টগুলোতে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে সরেজমিন অনুসন্ধান ও পুলিশের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রপাগান্ডার মুল হোতা,  ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, পিনাকী ভট্টাচার্জ ও ইলিয়াস হোসাইন । এদের সাথে যুক্ত হয়েছে  জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমান, তিনিও নানারকম প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। 

নোয়াখালীর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. নুরুল আনোয়ার জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে ধর্ষণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। “এটি কোনো ধর্ষণের ঘটনা নয়। তদন্তে আমরা এমন কোনো সত্যতা পাইনি। বিষয়টি পারিবারিক সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এছাড়া বিএনপি নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার দাবিও সঠিক নয়।”

যে বিএনপি নেতাকে ঘটনাটির সঙ্গে জড়ানো হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ডাক্তারদের ভাষ্যমতে—ঘটনার সময় তিনি রাত ১০টা ৩০ মিনিটে নোয়াখালী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যে বলা হয়, রাত ১১টার দিকে হাতিয়ায় ঘটনাটি ঘটে। এই সময় ব্যবধান ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। একাধিক স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সাথে কথা বলেও এর কোন সত্যতা পাওয়া যায় নি। স্থানীয়দের মতে এটি কোন ধর্ষনের ঘটনা নয়, বরং পারিবারিক সহিংসতার ঘটনাকে ধর্ষনের ঘটনা বলে প্রচার করে নিজেদের ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে জামায়াত শিবির ও দেশের বাইরে থাকা কিছু এক্টিভিস্ট। 

অনলাইন অনুসন্ধানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ফ্যাক্ট চেক ডেইলি বাংলা টাইমস তাদের প্রতিবেদনে দাবিটি  সম্পূর্ণ গুজব বলে উল্লেখ করেছে। এছাড়াও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, প্রেস ইনস্টিউট বাংলাদেশ (পি আই বি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। তাদের অনুসন্ধানে ঘটনাটির সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি অথবা নতুন সরকারকে চাপে ফেলতেই সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিতভাবে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হতে পারে। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বতন্ত্র তদন্তের ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হয়নি।

এএসপি নুরুল আনোয়ার বলেন, “যেকোনো তথ্য সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করার আগে অবশ্যই সত্যতা যাচাই করুন। প্রয়োজনে ভেরিফায়েড ফ্যাক্ট-চেক প্ল্যাটফর্ম বা বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল সাইবার পেজ অনুসরণ করুন।”

তিনি আরও বলেন, সামাজিক মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। গুজব ছড়িয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ফ্যাক্ট চেক-ডেইলি বাংলা টাইমস