ফ্যাক্ট চেক- ‘Tempo Stand’ নামের একটি স্বল্পপরিচিত ফেসবুক পেইজ থেকে একটি ফটোকার্ড পোস্টা করে দাবি করা হয়েছে, জামায়াত আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বিএনপির দুজন নেতা মাহদি আমিন ও ওয়াহিদুজ্জামানের জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন এই ঘটনায় গ্রেফতার বঙ্গভবনের এক প্রোগ্রামার।
তবে ফ্যাক্ট চেক-ডেইলি বাংলা টাইমসের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভুঁইফোড় ফেসবুক পেইজের এই দাবিটি ভুয়া।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে পড়া নারী বিদ্বেষী পোস্টের তদন্ত চলাকালে, রাজনৈতিক চাপের মুখে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ার আলমকে আটক করেছে ডিবি।
তাকে আটকের পর সংবাদমাধ্যমে ডিবির বরাতে কোনো জবানবন্দি বা স্বীকারোক্তির খবর প্রকাশিত হয়নি।
ফ্যাক্ট চেক-ডেইলি বাংলা টাইমসকে আজ বুধবার সন্ধ্যায় ডিবির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করা হলেও তিনি এখনো কোন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেননি বা কারো নাম বলেননি। সেহেতু মাহদি আমিন ও ওয়াহিদুজ্জামানের জড়িত থাকার এই দাবিটি ভুয়া।
উল্লেখ্য, জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক, বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামারকে গ্রেফতার নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ডিবি!
সূত্র বলছে, বুধবার দিনভর ডিবি কার্যালয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন সিনিয়র কর্মকর্তারা। এ সময় ডিবির তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ওই বৈঠকে জানান গ্রেফতারের মতো প্রমাণ তাদের হাতে নেই। তবে ডিবি প্রধান গ্রেফতার দেখাতে চাপ দেন তাদের। কিন্তু ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় তাকে গ্রেফতার দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন অধস্তন কর্মকর্তারা। এ নিয়ে একজন যুগ্মকমিশনারের সঙ্গে ডিবি প্রধানের বাগবিতণ্ডাও হয়। এ ঘটনার পর কার্যত ডিবি বিভক্ত হয়ে গেছে।
নাম প্রকাশ না করে ডিবির এক ঊধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ৫ আগস্টের আগে পুলিশ যে ধরণের ভুল-ত্রুটি করেছে সে ধরনের কর্মকাণ্ডে আর জড়াতে চায় না বর্তমানে ডিবির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।
তিনি আরো বলেন, কোন সংস্থা থেকে তথ্য পাওয়া গেলে তদন্তকারী সংস্থা হিসাবে তা যাচাই-বাছাই করে কোন সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে অন্য কোন সংস্থার নির্দেশে গ্রেফতার কার্যক্রম পেশাদারিত্বের বহির্ভূত একটা কাজ। এজন্য আমরা গ্রেফতারে অপারগতা প্রকাশ করেছি।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্টের একটি নারীবিদ্বেষী পোস্ট ঘিরে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। এই পোস্টকে কেন্দ্র করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে সমালোচনার মুখে পড়ে জামায়াত।
এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করে অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট করা হয়। তবে, জামায়াতের আমিরের ‘তথাকথিত টুইটার একাউন্ট হ্যাকড’ হওয়া দাবিটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে দেশ জুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।
ঘটনাটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট অমীমাংসিত, আমিরের টুইটার একাউন্ট হ্যাক হওয়ার যে দাবি বা গুজব ছড়িয়েছে তাঁর যদি কোনো প্রযুক্তিগত প্রমাণ (যেমন - ডিভাইস, লগইন লোকেশন, আইপি অ্যাড্রেস) প্রকাশ করা না হয়, এবং টুইটারের (এক্স) থেকে হ্যাকড হওয়ার স্বীকারোক্তি না মিলে তবে কেবল শুধু মৌখিক দাবি যথেষ্ট না বলে মন্তব্য করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা, যা সাধারণত ‘জনগণের কাছে মিথ্যা বা গুজব বলেই গ্রহণযোগ্য হবে’।
ফ্যাক্ট চেক-ডেইলি বাংলা টাইমস